দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বোটক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলায় আদালতে হাজির হয়ে চিত্রনায়িকা পরীমণি বলেছেন, মামলার ঘটনার কথা মনে পড়লে তিনি মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যান।
রোববার (৯ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯-এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে পরীমণির জেরার দিন ধার্য ছিল। তবে তিনি দেরিতে আদালতে পৌঁছানোয় জেরা করা সম্ভব হয়নি। পরে আদালত আগামী ৩০ নভেম্বর জেরার পরবর্তী দিন ধার্য করেন।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পরীমণি বলেন, ‘আমি আসলে অনেক মেন্টাল ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাই। যখন এই ডেটগুলো পড়ে, আবার সেই ঘটনাগুলো রিকল করা—এগুলো একপ্রকার মেন্টাল টর্চার বলতে গেলে।’
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রায়টা যত তাড়াতাড়ি হোক, সেটাই আমি চাই। কারণ আমার জন্য অনেক হ্যাসেল এগুলো। আদালতে পাঁচটা বছর তো হয়ে গেল। আমি আর চাই না এই হ্যাসেলটা। বিশ্বাস করেন, যার সঙ্গে ঘটে সে আসলে জানে কিসের মধ্যে দিয়ে যায়।’
আদালতে নিয়মিত হাজিরার কারণে ব্যক্তিগত জীবনে চাপ তৈরি হচ্ছে জানিয়ে পরীমণি বলেন, ‘তাড়াতাড়ি আসলে জেরাটা শেষ হয়ে যাক। কারণ এটা আমার জন্য অনেক হ্যাসেল। বাচ্চাদের নিয়ে সময় দেওয়া, তারপর সবকিছু ম্যানেজ করে আদালতে আসা প্রেসার হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আইনকে শ্রদ্ধা করি বলেই এই পাঁচটা বছর ধরে অপেক্ষায় আছি। একটা সুন্দর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি তাদের দেওয়া হোক।’
পরীমণি বলেন, ‘আমার মনে হয় পাঁচটা বছর হয়ে গেছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই জেরা শেষ হোক। একটা সুরাহা হোক। আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। আমি খুবই দোয়া করি আল্লাহর কাছে, এটা খুবই তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাক। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।’
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ জুন ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তাঁর বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে এবং আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে সাভার থানায় মামলা করেন পরীমণি। তদন্ত শেষে ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।
২০২২ সালের ১৮ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। একই বছরের ২৯ নভেম্বর পরীমণির আংশিক জবানবন্দির মধ্য দিয়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই আদালতে জবানবন্দি দিতে ইতস্তত বোধ করেন তিনি। তাঁর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারকাজ পরিচালনার আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় পরীমণির জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়।
এমএম/